শিরোনাম: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল নিউজ: কোনটি সত্য আর কোনটি গুজব বুঝবেন কীভাবে?

 


প্রতিদিন ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকে ঢুকলেই কোনো না কোনো ‘ভাইরাল নিউজ’ আমাদের চোখে পড়ে। কখনো কোনো অদ্ভুত ঘটনা, কখনো বা চমকপ্রদ কোনো খবর মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় হলো—ভাইরাল হওয়া সব খবর সত্য হয় না। কিছু অসাধু চক্র ভিউ এবং রিচের আশায় প্রতিনিয়ত গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে।

একজন সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে কোনো ভাইরাল নিউজ শেয়ার করার আগে সেটি সত্য নাকি ভুয়া, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নিই ভাইরাল নিউজের সত্যতা যাচাই করার কয়েকটি সহজ উপায়:

১. খবরের মূল উৎস বা সোর্স খুঁজুন ফেসবুকে কোনো অপরিচিত পেজ বা গ্রুপ থেকে ছড়ানো খবর দেখেই বিশ্বাস করবেন না। খবরটি যদি সত্যিই বড় কোনো ঘটনা হয়, তবে দেশের প্রথম সারির নিউজ পোর্টাল বা টিভি চ্যানেলগুলো (যেমন: প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা, সময় টিভি) অবশ্যই সেটি কভার করবে। গুগলে খবরের মূল বিষয়টি লিখে সার্চ করে দেখুন নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে তা এসেছে কি না।

২. রিভার্স ইমেজ সার্চ (Reverse Image Search) ব্যবহার করুন অনেক সময় ৫-১০ বছর আগের অন্য কোনো দেশের ছবি বা ভিডিওকে বর্তমান সময়ের বা বাংলাদেশের ঘটনা বলে ভাইরাল করা হয়। এটি ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গুগলের ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’। ভাইরাল হওয়া ছবিটি ডাউনলোড করে বা স্ক্রিনশট নিয়ে গুগল ইমেজে (images.google.com) আপলোড করুন। গুগল আপনাকে দেখিয়ে দেবে ছবিটি আসলে কবেকার এবং কোথায় প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল।

৩. খবরের তারিখ খেয়াল করুন অনেক সময় মানুষ না বুঝেই কয়েক বছর আগের পুরনো খবর নতুন করে শেয়ার করতে শুরু করেন, যা মুহূর্তেই আবার ভাইরাল হয়ে যায়। তাই কোনো নিউজ লিংকে ক্লিক করার পর সবার আগে তার প্রকাশের তারিখটি দেখে নিন।

৪. ক্লিকবেট (Clickbait) বা চটকদার শিরোনাম থেকে সাবধান যেসব খবরের শিরোনামে "দেখুন ভিডিওসহ", "গোপন ফাঁস", "না দেখলে মিস করবেন" বা প্রচুর বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!!!) থাকে, সেগুলো বেশিরভাগ সময়ই ভুয়া বা ক্লিকবেট হয়ে থাকে। এরা মূলত মানুষকে লিংকে ক্লিক করিয়ে ওয়েবসাইটের ভিউ বাড়ানোর ফাঁদ পাতে।

৫. ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইটের সাহায্য নিন বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন—বুম বাংলাদেশ (Boom BD), রিউমার স্ক্যানার (Rumor Scanner) এবং ফ্যাক্টওয়াচ (FactWatch)। সন্দেহজনক কোনো ভাইরাল নিউজ চোখে পড়লে এই ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে দেখতে পারেন তারা খবরটিকে ভুয়া প্রমাণ করেছে কি না।

শেষ কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুল খবর শেয়ার করা মানে আপনিও সেই গুজবের অংশীদার হলেন। তাই "লাইক" বা "শেয়ার" বাটনে ক্লিক করার আগে অন্তত একবার ভাবুন এবং যাচাই করুন। গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতা শুরু হোক আপনার থেকেই!

ব্লগের জন্য লেবেল/ট্যাগ: ভাইরাল নিউজ, গুজব প্রতিরোধ, ফ্যাক্ট চেক, সাইবার সচেতনতা, ইন্টারনেট সিকিউরিটি, সোশ্যাল মিডিয়া, বাংলাদেশ নিউজ।


Post a Comment

Previous Post Next Post